প্রেম দিবসে খোলা চিঠি অনিন্দিতার

অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় (হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী)

ভালোবেসে যে এত শাস্তি পেতে হবে, সেটা কে জানত? একজন মানুষকে ভালোবাসলাম। তাঁর সঙ্গে ঘর বাঁধলাম। জীবন শুরু করলাম। ২৫ বছর কাটিয়েও দিলাম। তার পর কি আমার এটা প্রাপ্য ছিল? তবে আমি এখন আর এসব ভাবি না। ভাবতে চাই না। যা হয়েছে, তা হয়তো ভালোর জন্যেই হয়েছে। এটাই নিজেকে বুঝিয়েছি।

ভ্যালেন্টাইন’স ডে-নিয়ে আমাদের কোনওদিন সে ভাবে পরিকল্পনা ছিল না। তাঁরও কোনও আগ্রহ ছিল না। আমারও বিশেষ দাবি ছিল না। কোনও কিছু নিয়েই বাড়তি কোনও চাহিদা আমার কখনও ছিল না। সেটাই বোধহয় ভুল হয়েছে। টেকেন ফর গ্রান্টেড হয়ে গিয়েছিলাম বোধহয়। এখন সত্যি আর ভালোবাসার উপর আমার বিশ্বাস উঠে গিয়েছে।

তবে ভালোবাসা তো আর শুধু ছেলে-মেয়ের মধ্যে হয় না। জীবন থেকে দাম্পত্যজীবন, প্রেম মুছে গেলেও, ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়নি। আমার মেয়ে আছে, ছোট্ট পোষ্য আছে। ওরা আমায় ভীষণ ভালোবাসে। আমি ওদের ভীষণ ভালোবাসি। সারা দিন পর যখন বাড়ি ফিরি, যে ভাবে ওরা আমার দিকে ছুটে আসে, তাতেই আমার সমস্ত ক্লান্তি মুছে যায়।

সত্যি কথা বলতে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ভ্যালেন্টাইন’স ডে। যে যাওয়ার সে চলে যাবেই। তাকে আটকে রেখে আমি কী করব। কিন্তু এর আগে যখন বাড়ি ফিরে দেখতাম অন্য মেয়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে, সেই যন্ত্রণাটা আর পেতে হবে না। আমার মেয়েও সেটাই বলছিল। তবে আমি মেয়েকে নিয়ে ভীষণ ভয় পাই। ওর জীবনেও তো প্রেম আসবে। অন্য কোনও পুরুষ আসবে। আমি তো ওর স্বাভাবিক আবেগ থেকে ওকে দূরে পাঠিয়ে দিতে পারি না। যদিও সবাই সমান নয়। তবু মা তো, ভয় করে। আমার মেয়ের জীবনটা যেন আমার মতো না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *